একজন বাংলাদেশী ভাস্কর



শামীম শিকদার একজন বাংলাদেশী ভাস্কর ।[১]তিনি চারুকলা ইনস্টিটিউটের ভাস্কর্য বিভাগের একজন অধ্যাপক ছিলেন।তিনি সিমেন্ট, ব্রোঞ্জ, কাঠ, প্লাস্টার অব প্যারিস, কাদা, কাগজ, স্টীল ও গ্লাস ফাইবার মাধ্যমে কাজ করেন।


শিক্ষা জীবন

শামীম শিকদার ৩ বছরের একটি কোর্স সম্পন্ন করেন ভাস্কর্যের ওপরে ঢাকার বুলবুল ললিতকলা একাডেমী থেকে ১৯৬৫ সাল থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত।এই কোর্সটির শিক্ষক ছিলেন মিস্টার সিভিস্কি যিনি একজন বিখ্যাত ফেঞ্চ ভাস্কর।লন্ডনের স্যার জন স্কুল অব কাস থেকে তিনি একটি সনদ অর্জন করেন ১৯৭৬ সালে।১৯৯০ সালে চীনে মিস্টার লি ডুলি নামের একজন বিখ্যাত ভাস্করের সাথে কাজ করেন এক বছরের মতো।[২]

কর্মজীবন

শামীম শিকদার ১৯৮০ সালে শিক্ষক হিসেবে কাজ শুরু করেন । ১৯৮৬ সালে সহকারী অধ্যাপকের দায়িত্ব লাভ করেন।অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর হিসেবে দায়িত্ব পান ১৯৯৩ সালে। এরপর ১৯৯৯ সালে অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন।[৩] ভাস্কর শামীম শিকদার চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষকতা থেকে অবসর নিয়েছেন। ৮ বছর আগে তিনি ইংল্যান্ড চলে যান।[৪]

বিখ্যাত কর্ম

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতির জনকের স্বরণে একটি ভাস্কর্য নির্মাণ করেন ১৯৭৪ সালে।১৯৮৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টি এস সিতে অবস্থিত সোপার্জিত স্বাধীনতা শিরোনামের ভাস্কর্য নির্মাণ করেন [৫]।তাঁর সহকারী ছিলেন শিল্পী হিমাংশু রায়। ভাস্কর্যটির মূল বেদিতে আছে একাত্তরের বিভিন্ন ঘটনার চিত্র। ১৯৮৮ সালের ২৫শে মার্চ এটি স্থাপন করা হয়। [৬]স্বামী বিবেকানন্দের ভাস্কর্য নির্মাণ করেন ১৯৯৪ সালে যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে অবস্থিত।২০০০ সালে স্বাধীনতার সংগ্রাম ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য উদ্যানে বিভিন্ন বিখ্যাত ব্যাক্তিদের ভাস্কর্য নির্মাণ করেন। ইস্কাটনে অবস্থিত জাতীয় ভাস্কর্য গ্যালারিতে নির্মাণ করেন তিনি যেখানে আছে বিশ্বের অন্যান্য ব্যাক্তিদের ভাস্কর্য , বাংলাদেশের বঙ্গবন্ধু ও ভয়ংকর রাজাকারদের ভাস্কর্য। জাতীয় ভাস্কর্য গ্যালারির প্রাথমিক কাজ শেষ হওয়ার পর নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি খুলে দেওয়া হয়েছিল দর্শনার্থীদের জন্য। শুরুতে সকাল-সন্ধ্যা সবার জন্য খোলা থাকত। পরে নানা কারণে এটা বন্ধ হয়ে যায়। এখন দিন-রাতই দরজা বন্ধ থাকে। তবে আগ্রহীরা গ্যালারির বাঁপাশের দরজায় নক করলে ঢুকতে দেওয়া হয়।[৭]
স্টাগলিং ফোর্স ১৯৮২ সালে নির্মিত হয়েছে বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে।একটি মধুর স্বপ্ন ভাস্কর্যটি চারুকলা ইনসস্টিটিউটে রাখা আছে যা ১৯৮৩ সালে নির্মিত। আশা ও উদ্দীপনার একটি পাখি নামের ভাস্কর্যটি ঢাকার ফার্মগেটে অবস্থিত মাদার তেরেসা চ্যারিটি হাসপাতালে স্থাপিত হয়েছে ১৯৯৪ সালে।রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় তার নির্মিত ভাস্কর্য আছে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আনোয়ার পাশায় তার নির্মিত অনেক ভাস্কর্য আছে।[৩]

প্রদর্শনী

১৯৭৫ সালে চারুকলা ইনন্সটিটিউটে সামীম শিকদারের একক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।১৯৭৬ সালে লন্ডনের কমনওয়েলথ ইনস্টিটিউটে, ১৯৮২ সালে প্যান প্যাসিফিক সোনার গাঁ হোটেলে এবং ঐ বছরই শিল্পকলা একাডেমীতে তার ভাস্কর্যের প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও তাঁর অনেক একক প্রদর্শনী হয়েছে বিভিন্ন বাণিজ্যিক শিল্প গ্যালারীতে। তাঁর ভাস্কর্যের দলগত প্রদর্শনী হয়েছে বিভিন্ন স্থানে নানা সময়। [৩]

প্রকাশিত গ্রন্থ

  • ইনার ট্রুথ অব স্কাল্পচারঃ আ বুক অন স্কাল্পচার[৮]
  • স্কালপচারকামিং ফ্রম হেভেন (২০০০)
  • কনটেম্পোরারি আর্ট সিরিজ অব বাংলাদেশ [৯]

[সম্পাদনা] ব্যাক্তিগত জীবন

শামীম শিকদারের স্বামীর নাম জাকারিয়া চৌধুরী যিনি একজন কবি । তাদের দুইটি কন্যা আছে ।তাদের নাম সুইটি ও শান্তি।তিনি ভাস্কর্যের পাশাপাশি ছবি আঁকা, জুডো, কারাতে, শ্যুটিং, বাগান করা ও গাড়ি চালাতে পারেন।শামীম শিকদার কবিতা, সংগীত ও নাটকের ব্যাপারে আগ্রহ বোধ করেন।তিনি ইংল্যান্ড,ইতালিএবং চীন সফর করেছেন বিভিন্ন সময়।[৩]

সন্মাননা

১৯৬৯ সালে লাভ করেন ইনস্টিটিউট অব ফাইন আর্টস পুরস্কার ১৯৬৯ সাল, ১৯৭০ সাল, ১৯৭৩ সাল এবং ১৯৭৪ সালে।১৯৭৩ সালে অর্জন করেন সিলভার জুবলি অ্যাডওয়ার্ড অব ফাইন আর্ট।১৯৭৪ সালে ভাস্কর্যের ওপর প্রধানমন্ত্রী পুরষ্কার জিতে নেন ১৯৭৪ সালে।২০০০ সালে একুশে পদক লাভ করেন।
Share on Google Plus

About আরমান

This is a short description in the author block about the author. You edit it by entering text in the "Biographical Info" field in the user admin panel.

0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন